Showing posts with label জয়নগরের মোয়া. Show all posts
Showing posts with label জয়নগরের মোয়া. Show all posts

Thursday, 22 December 2016

জয়নগরের মোয়া

জয়নগরের মোয়া





ভগাছের ডালে একটা মুখপোড়া হনুমান ৷ হনুমানটার লম্বা ল্যাজ৷ বাঘু তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ছড়া কাটছে -


"এই হনুমান কলা খাবি
জয় জয়ন্নাথ দেখতে যাবি?"

ভেঙচি কেটে হনুমানটা বলছে পেলে অবিশ্যি খাই৷ কিন্তু বলি, এটা কি কলা খাবার সময়৷
রোদে পিঠ দিয়ে আমি তখন আরাম করছি৷ ফস করে বলে  ফেলি, "এটা হল ফুলকপির শিঙাড়া, নলের গুড়ের সন্দেশ আর জয়নগরের মোয়া খাবার সময়৷'
"বুড়ো বয়সে তোমার খুব যে নোলা হযেছে দেখছি৷ কিন্তু বলো দিকি, কো—থায় গেলে জয়নগরের মোয়া মেলে?" এই বলে হনুমানটা গাছের ডালে দোল খায়- যেন সার্কাস পার্টির খেলা দেখাচ্ছে৷
উত্তরটা কী হবে ভাবছি, বাঘুটা তার আগেই হাঁদার মতন বলে ওঠে, "কোথায় আবার মেলে, জয়বাংলা গেলেই মিলতে পারে৷'
ভুগোলে বাঘু বরাবরই কাঁচা৷ ওকে শুধুরে দিতে বলি, জয়রামটি জয়নগরের মোয়ার জন্য বিখ্যাত, তাও জানিসনে হাঁদারাম৷
হনুমানটা তখন জয় রাম জয় রাম বলে দু'বার চেঁচিয়ে কিচির-মিচির কিচমিচ আর হুপহাপ করে খানিকটা হেসেটেসে নিয়ে বলে, যেমন গুরু তেমনি চ্যালা কেউ কিছুটি জানে না৷ আরে বাপু, জয়নগরের মোয়া জয়নগরেই মেলে৷ ট্রেনে মিলবে শেয়ালদা গেলে৷ জয়নগর আমার মামার বাড়ি- মোয়া খাব একটি হাঁড়ি৷ সোঁদরবনের বৃক্ষ ছাড়ি - এই চললু তাড়াতাড়ি৷'
বলতে না বলতেই হনুমানটা হুপ করে দিয়েছে এক লাফ, আর শ্রীমান বাঘুও অমনি তিড়িং লাফে তার ল্যাজটা বাগিয়ে ধরে সঙ্গে সঙ্গে ঝুলে পড়েছে৷
কী দস্যি রে বাবা৷
ভয় পেযে আমি চেঁচামেছি জুড়ে দিই< "করিস কী - করিস কী ছেড়ে দে - হনুমানের ল্যাজ ধরতে নেই - মহাপাপ হবে৷
হনুমানটা ততক্ষণে লাফ দিয়ে আর একটা গাছের ডালে বসেছে৷ বাঘু দিব্যি ঝুলে আছে তার ল্যাজ ধরে৷ বলছে, "আমি যাচ্ছি জয়নগরে - হনুমানজির মামার বাড়িতে৷ জয়নগরের মোয়া না খেয়ে ফিরছি না৷
বাঘুর কথা শেষ হতে না হতেই হঠাত একটা আওয়াজ শোনা যায়৷ বাপ রে, সে কী আওয়াজ৷ আমার পিলে-টিলে সব চমকে  ওঠে৷ বাঘু হনুমানের ল্যাজ ছেড়ে দিয়ে ধপাস করে মাটিতে এসে পড়ে৷ হনুমানটা "জয় রাম' বলে চেঁচিয়ে ওঠে৷
আমি আকাশের দিকে তাকাই৷ বাঘুর গায়ের ধুলো-টুলো ঝেড়ে আকাশমুখো হয়৷ 
একটা হেলিকাপ্টার
খুব নীচু দিয়ে সেটা উড়ে যাচ্ছে৷